গত ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুরুর পর এই প্রথম ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে ইসরায়েলে অস্ত্র-গোলাবারুদের যে চালানটি পাঠানোর কথা ছিল, সেটি আপাতত পাঠানো হচ্ছে না বলে ইসরায়েলকে জানিয়েছেন ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা।

রোববার (৫ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস প্রথম এই সংবাদ প্রকাশ করে।

ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, ওয়াশিংটনের আকস্মিক এ পদক্ষেপে উদ্বেগ বোধ করছেন ইসরায়েলের কর্মকর্তারা। ঠিক কী কারণে অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত করা হয়েছে তা জানতে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছে। কেননা এই চালানটিতে জরুরি কিছু অস্ত্র আসার কথা ছিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এখনও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না বলে খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের এক কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছিল সিএনএন। তবে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলকে শত শত কোটি ডলারের নিরাপত্তা সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েক মাসে ইসরায়েলকে যত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, তা গত কয়েক দশকেও দেওয়া হয়নি। শুধু হামাসই নয়, হিজবুল্লাহ ও ইরানকে মোকাবিলা করার জন্যও আমরা ইসরায়েলকে সহায়তা দিয়েছি এবং আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলকে গাজায় অভিযান চালানোর পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে বেসামরিক লোকজনের হতাহতের ঘটনা কমাতে, গাজায় ত্রাণ-সামগ্রী প্রবেশে বাধা না দেওয়াসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইসরায়েল এসব বিষয়ে কর্ণপাত করেনি। সবশেষে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর রাফায় অভিযান চালাতেও নিষেধ করা হয়েছিল। সেই নির্দেশনাও অমান্য করে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার ‘হুঁশ’ ফেরাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।